১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে মধ্য আমেরিকার নিম্নভূমির বনাঞ্চলে এক অদ্ভুত সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। “মায়া” নামে এই সভ্যতা যে জনগোষ্ঠী নির্মাণ করেছিল, তারা অধিকাংশ প্রাথমিক সভ্যতা নির্মাণকারীদের মতো শহরে জীবন যাপন করত না। বরং তাদের বসবাস ছিল ছোট ছোট কৃষি-গ্রামে। তারা পিরামিডের মতো দেখতে উপাসনাগৃহ ও উৎসবস্থল তৈরি করেছিল। এগুলো ছিল তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। মায়াদের ৪টি প্রধান কেন্দ্র ও অনেকগুলো ছোট ছোট কেন্দ্র ছিল। প্রধান কেন্দ্রগুলোর একেকটি থেকে দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ এলাকায় শাসনকার্য চালানো হত।
![]() |
| মায়াদের তৈরিকৃত একটি উপাসনাগৃহ |
মায়া সভ্যতায় চিত্র-লিখন পদ্ধতি ও নির্ভুল পঞ্জিকা ব্যবস্থা চালু ছিল। তাদের জ্যোতির্বিদরা সূর্যগ্রহনের দিন তারিখ সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বানী করতে পারত। মায়া শিল্পীরা পাথর খোদাই শিল্পে ছিল অতুলনীয়।
![]() |
| মায়া সভ্যতার পঞ্জিকা |
কিন্তু ৯০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মায়ারা তাদের সভ্যতার কেন্দ্রগুলো ছেড়ে চলে যায় এবং তাদের স্থিতিশীল জীবনব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। ১৫ শতকে স্পেনীয়রা যখন ওই এলাকায় আসে তখন নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে করতে নিঃশেষ প্রায় মায়া জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে তাদের খুব বেশি প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হয়নি।
![]() |
| মায়া সভ্যতার একটি প্রাচীন নিদর্শন |
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সেই মায়া সভ্যতার বর্তমান অবস্থান কোথায়? বর্তমানে মায়া সভ্যতার অবস্থান হচ্ছে- মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল, গুয়াতেমালা, বেলিজ, এল সালভেদরের উত্তরাঞ্চল এবং হন্ডুরাসের পশ্চিমাঞ্চলে।
![]() |
| প্রাচীন মায়া সভ্যতার বর্তমান মানচিত্র |





















